
এখানে ভ্যানে চড়ে চলাচল নিত্যনৈমিত্তিক, আমাদের কাছেও বেশ মজার। রোদ পড়েছিল বেশ, সালমা আপা আর সিগ্ধা রঙ্গিন ছাতা মেলে ধরলো। এবারে আমাদের সঙ্গী ফরাসি-ফিরিঙ্গি পর্যটক আরউইন। তার কথাটা একটু বলে নেই, বাড়ি সুদূর ফ্রান্সে, ছবি তোলে সখে আর নেশা ঘুরে বেড়ানো। বাংলাদেশে এসে সে মায়ায় জড়িয়ে ফেলে নিজেকে। কত শত হাজার ছবি যে সে তুলেছে এই বাংলার মায়া ভরা মানুষের, সজীব প্রকৃতির, আর আমাদেরও।

‘ওয়ান ভিলেজ’ যখন আর মাত্র এক কিলোমিটার বাকি তখন রাস্তার কাজ করে পাথর নেয়ার একটি গাড়ি যাচ্ছিল। হিচ হাইকিং এর উদ্দেশে তাদের অনুরোধ করলাম আমাকে ‘ওয়ান’ পর্যন্ত যেন নামিয়ে দেয়। তারা আমার অনুরোধ রাখলো। ‘ওয়ান’ থেকে পাহাড়ি পথ ধরে এবার হাটা শুরু করলাম। যার সাথেই দেখা হচ্ছে সে জিজ্ঞেস করছে, ‘আকেলা আয়া’, মানে একাই এসেছো? আমি মাথা নেড়ে বলি হুম। সবাই তাকিয়ে থাকে আর ঢাকা থেকে এসেছি শুনে আরো থ’ হয়ে যায়।

শীতের সময় এখানের রূপ দেখেছিলাম সরল, পাতা ঝরা, আর বর্ষায় এর বিপরীত। দুর্গম পথে বড় বড় ডালপালা রাস্তার উপরে আছড়ে পড়েছে। ঘন জঙ্গল, রাস্তা প্রায় দেখাই যায় না। মনে হচ্ছে এখনই ভয়ঙ্কর কোনো প্রাণী এসে গাড়ির সামনে দাঁড়াবে।